বিলুপ্তির পথে লেমুর

লেমুরের প্রায় সব প্রজাতি আজ বিলুপ্তির হুমকির সম্মুখীন , বিশেষ করে প্রশস্ত চোখের  বৈশিষ্ট্যের প্রাইমেট; যাদের শুধু মাদাগাস্কারে দেখা মেলে।

প্রাইমেট বিশেষজ্ঞ একটি দল লেমুরের সংখ্যা ,আবাস এবং তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকা নিয়ে হুমকি নিয়ে সর্বশেষ গবেষণার পর্যালোচনা , তুলনা করে তারা একটি  সিদ্ধান্তে এসেছেন সেটি হল পৃথিবীতে  প্রাইমেটদের  মধ্যে লেমুর হল সবচেয়ে বেশি বিপন্ন প্রাণী ।

লেমুর প্রজাতির প্রধান হুমকিগুলো কি?

প্রাইমেট বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান Russ Mitter-meier  গ্লোবাল ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন’ এর একটি বিবৃতিতে বলেছেন, মাদাগাস্কারের অনন্য প্রজাতির লেমুুরের বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি আর এটি মাদাগাস্কারের  সম্পূর্ণ  জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুুুুমকি ।

তিনি আরও বলেছেন, অনন্য এবং বিস্ময়কর প্রজাতিগুলো  মাদাগাস্কারের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

প্রাণীগুলো বিভিন্ন ধরনের হুমকির সম্মুখীন হয়। যেমন – তাদের একমাত্র আবাসস্থল ট্রপিক্যাল ফরেস্ট ধ্বংস হওয়া। অবৈধভাবে গাছ কাটা, কয়লা উৎপাদন এবং মাইনিং এর কারনে ট্রপিক্যাল ফরেস্ট ধ্ববংস হয়ে যাচ্ছে।

খাবারের জন্য লেমুর শিকার, পোষাপ্রাণী বাণিজ্যের জন্য লেমুর বন্দি করা এসব কারণ লেমুরের বেচেঁ থাকার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে।

ব্রিস্টল জুওলজিক্যাল সোসাইটির প্রফেসর Christoph Schwitzer , প্রাইমেট বিশেষজ্ঞ দলের উপসহসভাপতি  বিবিসির একটি বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা  আরো অনেক বেশি অসহনীয়  হারে লেমুর শিকার দেখতে পাচ্ছি।

তিনি বলেন , আমরা বাণিজ্যিক শিকার ও দেখেছি সম্ভবত স্থানীয় রেস্টুরেন্ট এর জন্য। এটি মাদাগাস্কার এর জন্য নতুন একটি ব্যাপার, যেটি আমরা ১৫ বছর আগে এ হারে দেখিনি।

মাদাগাস্কারে লেমুরের ১১১ টি উপপ্রজাতি এবং প্রজাতি রয়েছে। প্রাইমেট বিশেষজ্ঞ দলটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে,১১১টির মধ্যে ১০৫ টি হুমকির পথে রয়েছে।

এই ওয়ার্কশপটি আহবান করা হয় IUCN ( International Union for Conservation of Nature) পক্ষ হতে। এটি প্রত্যেক স্টাডিড স্পিসিসের সংরক্ষণ অবস্থা মূল্যায়নের প্রথম আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ।

যার ফলাফলস্বরূপ  IUCN একটি প্রকাশনা  প্রকাশ করে, সেটি হল বিলুুপ্তির হুমকির সম্মুখীন প্রজাতিগুলোর রেডলিস্ট।

প্রানীগুলোকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষার জন্য কি করা যেতে পারে ?

যদিও সিদ্ধান্তগুলো শুনতে নিকৃষ্ট শোনায় কারণ এ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হল, সর্বশেষ গবেষণাগুলো  পরীক্ষা করা এবং এটি ব্যবহার করে জরুরী সংরক্ষণের জন্য অগ্রাধিকার গুলো খুজেঁ  বের করা।

আইইউসিএন ইতিমধ্যেই এটি প্রয়োগ করেছে যা প্রাণীদের সংরক্ষণের জন্য “লেমুর একশান প্ল্যান” নামে অভিহিত । এ প্ল্যানে প্রাণীদের সংরক্ষণের সাথে সাথে তাদের আবাস অর্থাৎ ঐ অঞ্চলের গাছগুলো সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে, যেখানে বিলুপ্তির হুমকির সম্মুখীন বেশিরভাগ প্রাণী সেখানে বাস করে।  এ ধরনের কনজারভেশন ‘ ইনসিটু কনজারভেশন’ হিসেবে পরিচিত।

‘লেমুর একশান প্ল্যানে ‘ ইকোট্যুরিজম স্কিম এর মাধ্যমে ঐ এলাকার স্থানীয়  মানুষদের অর্থনেতিকভাবে সাহায্য করার কথা বলা হয়েছে, যাতে দারিদ্র্যতার জন্য তাদের লেমুর শিকার না করতে হয়।

প্রফেসর Schwitzer বিবিসিকে বলেছেন, যারা লেমুরদের ভালবাসে তাদের এসব সমস্যার ব্যাপারে কথা বলা উচিত”।

 

 

 

 

Comments are closed.