ফিফা ১৮ : ইগ্নিট হতে ফ্রস্টবাইট ইঞ্জিন [উন্নত গ্রাফিক্স প্রযুক্তি]

একজন গেমার এবং একইসঙ্গে যদি আপনি ফুটবল-প্রেমিক হয়ে থাকেন, তাহলে নিঃসন্দেহে আপনার অন্যতম প্রিয় গেমস টি হল ‘ফিফা’। ফিফা ১৮ এর দিন তো শেষ হয়ে এলো প্রায়, সামনেই রিলিজ হচ্ছে ফিফা ১৯। তবে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, ফিফা ১৯ তেও ফ্রস্টবাইট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে। ফিফা ১৭ এ মূলত ইগ্নিট ইঞ্জিন হতে ফ্রস্টবাইটে যাত্রা শুরু হয় ‘ফিফা’ গেমারসদের।

তাহলে, চলুন জানা যাক, কেন ইগ্নিট হতে ‘EA Sports‘ কে ফ্রস্টবাইট ইঞ্জিনে আসতে হলো।

ফিফা ১৮’র ইগ্নিট হতে ফ্রস্টবাইটে যাত্রা

ফ্রস্টবাইট ইঞ্জিন যা ফিফা ১৭ এ নতুন করে সংযুক্ত হয়।

ইগ্নিট ইঞ্জিনের শুরু ২০১৩ সালের মে মাসে, যা ‘মাইক্রোসফট উইন্ডোজ‘, ‘প্লে-স্টেশন ৪’ এবং ‘এক্স-বক্স ওয়ানে’ চলবার উপযুক্ত ছিল। ইগ্নিট এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ফিফা ১৪ গেমসটির মাধ্যমে। এর পরবর্তীতে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে ফিফা ১৫ এবং ফিফা ১৬ রিলিজ হয়। এই দুটি ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয় ‘ইগ্নিট’।

যেহেতু, ফিফা পৃথিবীর অন্যতম একটি খেলাকে কেন্দ্র করে তৈরী, সেহেতু গেম-প্রডিউসিং টিমের মূল লক্ষ্য ছিল গেমটিকে যথাসম্ভব বাস্তবমূখী করে ফুটিয়ে তোলা। “একজন ফুটবলপ্রেমিক টিভিতে ফুটবল খেলা উপভোগ করছেন এবং ধরা যাক পাশেই বসে একজন যে গেমার গেমটি খেলছেন। অজ্ঞাত কোনো লোক এসে যেন আলাদা না করতে পারে কোনটি আসল খেলা , আর কোনটি গেমস। এটিই ছিল  প্রডিউসিং টিমের মূল লক্ষ্য।” ফিফা ১৮ এর উদ্বোধনীতে প্রডিউসিং টিমের প্রধান স্যামুয়েল রিভেরা একথাটি ই বলেন।

ভার্চুয়াল বুটস এবং মাঠ ও মাঠের চারিপাশের গ্যালারি, একই সঙ্গে স্টেডিয়ামের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং তার বিশ্লেষণ এর ক্ষেত্রে ও গেমস-ডেভলপাররা যথাসাধ্য পরিশ্রম করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য- বাস্তবমূখী করে সম্পূর্ণ গেমটিকে ফুটিয়ে তোলা।

ফিফা ১৮ গেমটির সমস্ত কার্যাবলী নিয়ন্ত্রিত হবে ফ্রস্টবাইট ইঞ্জিন এর মাধ্যমে। ফ্রস্টবাইট ইঞ্জিনের সফটওয়্যার ডেভলপ করে ইএ স্পোর্টসের ডেভলপারেরা। হার্ডওয়্যার ডেভলপের ক্ষেত্রে যুক্ত রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান- ‘সনি’ এবং ‘মাইক্রোসফট’। এক্স-বক্সে ব্যবহার করা ইঞ্জিনটির ক্ষেত্রে হার্ডোয়্যারটি ‘মাইক্রোসফটের’ প্রোগ্রাম করা, একইভাবে প্লে-স্টেশন এর ক্ষেত্রে সেটি ‘সনি’ এর।

ফিফা ১৮ তে পেলের ছবি
ফিফা ১৮ তে পেলের ছবি

গ্রাফিক্যাল ফ্লোরিশিংঃ

 

এ বিষয়ে কেউ অমত পোষণ করবে না যে, ফিফা ১৭ হতে ইএ স্পোটর্সের ইগ্নিট ইঞ্জিনের ব্যবহার থামিয়ে দেওয়া এবং ফ্রস্টবাইট ইঞ্জিনের ব্যবহারের প্রধান কারণ কি। মূলত ইগ্নিট ইঞ্জিন এ গ্রাফিক্যাল মসৃণতা-জনিত কিছু সমস্যা ছিল। যেমনঃ গেম লাইটিং (আলোকসজ্জা), আবহাওয়ার অবস্থা। এমনকি গেমাররা নতুন প্রজন্মের কনসল ব্যবহার করলেও সমস্যা টি থেকেই যাচ্ছিল। এছাড়াও নতুন এই ইঞ্জিনটি ব্যবহারের কারণে, খেলোয়াড়দের স্কিন টোন এবং মুখের অভিব্যক্তি স্পষ্ট ভাবে বোঝা সম্ভব।

ফিফা ১৮ এর ক্ম্যারিয়েটিভ ডিরেক্টর ম্যাথিউ প্রিয়োর বলেন, “ফ্রস্টবাইটের ব্যবহারের প্রথম বছরটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে এ বছরে গেমাররা গেমটি কে আরো ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবে। ফ্রস্টবাইটের সম্পূর্ণ মজা গেমারদের জন্য উপস্থাপন করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।”

সুতরাং, ফিফা ১৮ অবশ্যই ফিফা গেমারদের মন জয় করেছে। গেমে দর্শকেরাও ভিন্ন ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। ল্যাটিন আমেরিকার কোনো দেশে খেললে যেমন আপনি আলোক-উদ্দীপক কিছু মূহুর্ত পাবেন, তেমনি ইউরোপে পাবেন কিছু টা ভারী আবহাওয়া। অবশ্যই “রিভার প্লেট বনাম বোকা জুনিয়রস” অথবা “রিয়াল-মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা” এমন ম্যাচ গুলো দর্শকদের মিশ্র নতুন প্রতিক্রিয়ায় আরো বাস্তব হয়ে উঠবে।

এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, ফিফা ১৯ এ ও ব্যবহার করা হবে “ফ্রস্টবাইট ইঞ্জিন”, তবে কেমন ই হতে পারে অন্যসকল গ্রাফিক্যাল অবস্থা সেটা এখনো কৌতুহলের বিষয়। কৌতুহল মেটাতে হলে অপেক্ষা করতে হবে রিলিজ পাওয়া পর্যন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>