চলুন ঘুরে আসি পরম থেকে চরম তাপমাত্রার জগতে…

শীতকালে আমাদের দেশে কত ঠাণ্ডা পরে? এই সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রীতে নেমে যায়। কিন্তু মেরু অঞ্চলে অথবা হিমালয়ে তো অনেক ঠাণ্ডা পরে। টিভিতে আমরা দেখি শিতের অঞ্চলে বরফ পরে। বিয়ার গ্রীল বরফের মধ্য দিয়ে হেটে যায়। টিভির সামনে বসে থেকে এসব দেখেই আমাদের হাত-পা শিতে জমে যায়। মানুষ বাস করে পৃথিবীর সবথেকে কম তাপমাত্রা এমন একটি যায়গা হলও Oymyakon নামে রাশিয়ার একটা গ্রাম। এখানে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে আরও ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। কিন্তু যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে মহাবিশ্বে সর্বনিম্ন কত তাপমাত্রা থাকা সম্ভব? অনেকেই যারা মোটামুটি বিজ্ঞান জানে তারা বলবে -২৭৩.১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রাকে বলা হয় পরমশূন্য তাপমাত্রা। আচ্ছা, এবার যদি বলা হয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত হতে পারে? এবার অনেকেই হয়তো মাথা চুলকাবে। তবে কেউ কেউ বলে দিবে যে পদার্থবিদরা হিসেব করে দেখেছেন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১,৪২০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ হতে পারে।

সর্বোচ্চ আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রাটা দেখে হয়তো অনেকেরই মাথা ঘুরে গিয়েছে। এই তাপমাত্রাটা আসলে পদার্থবিদরা তাত্ত্বিকভাবে হিসেব করে পেয়েছেন। বাস্তবে আমরা এখনো এমন কোন তাপমাত্রা মহাবিশ্বের কোথাও পাই নি। এ পর্যন্ত পাওয়া মহাবিশ্বে সবথেকে শীতল যায়গা হলও ‘বুমেরাং নেবুলা’। এর তাপমাত্রা পাওয়া গিয়েছে শূন্যের নিচে ২৩৬ ডিগ্রী অর্থাৎ -২৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে গবেষণাগারে আমরা আরও অনেক কম তাপমাত্রা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। এ পর্যন্ত আমাদের পাওয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হলও -২৭৩.১৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস যা একদম পরম শূন্য তাপমাত্রার কাছাকাছি। ইতালির বিজ্ঞানীরা একটি কপার ভেসেলকে ঠাণ্ডা করে এই তাপমাত্রা পেতে সক্ষম হয়েছে। এপর্যন্ত মানুষের তৈরি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হলও 5,500,000,000,000 ডিগ্রী সেলসিয়াস যা লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে দুইটা লেড আয়নের সংঘর্ষের ফলে তৈরি করা হয়েছে।

আসুন এবার দেখে আসা যাক অন্যান্য জিনিসগুলোর তাপমাত্রা। বিবিসি বিভিন্ন জিনিসের তাপমাত্রা উল্লেখ করে একটা দারুণ ইনফোগ্রাফিক্স তৈরি করেছে। চলুন তাহলে এবার একটু ভ্রমণ করে আসি তাপমাত্রার জগতে…

Comments are closed.